‘চিকিৎসায় অবহেলার’ অভিযোগে নেত্রকোনায় হাসপাতালে ভাঙচুর

Untitled design (35)

এক ইজিবাইক চালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনা জেলা হাসপাতালে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘ডাক্তারদের অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে’ এমন অভিযোগে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) রাত প্রায় ৯:৪৫ মিনিটে। মৃত সজীব মিয়া (২৩) নেত্রকোনা পৌরসভার আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন।
মৃতের আত্মীয়দের অভিযোগ, গতকাল সন্ধ্যায় পেটে ব্যথা ও বমি নিয়ে সজীবকে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সত্ত্বেও, কর্তব্যরত ডাক্তার সুজন পাল বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে বিলম্ব করেন। এক পর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে জড়ো হন। এক পর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান। ফলে জরুরি বিভাগ এবং পাশের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কয়েকটি জানালা ও একটি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উত্তেজিত আত্মীয়দের শান্ত করা হয়।
সেই সময় হাসপাতালের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাজহারুল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল আমিন যুগান্তরকে জানান, রবিবার সন্ধ্যা থেকে হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছিল না। জেনারেটরের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছিল। রাত ৮টা বেজে ৮ মিনিটে রোগীকে হাসপাতালে আনা হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ইসিজি করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাঁর আত্মীয়দের বিষয়টি জানানো হয়। তবে, রেফার করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি মারা যান। এরপর আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে এসে ভাঙচুর চালায়।
হাসপাতাল সুপারিনটেনডেন্ট একরামুল হাসান যুগান্তরকে জানান, হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছিল না। পিডিবি নির্বাহী প্রকৌশলীকে বারবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইনচার্জ ডাক্তার সুজন পালের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ ছিল। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Description of image