উগান্ডায় খরা ও খাদ্য সংকটে ১৬ জনের মৃত্যু
সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী খরায় ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর-পূর্ব উগান্ডার কারামোজা অঞ্চলে অনাহারে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই খরার কারণে হাজার হাজার পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে।
উগান্ডার প্রধানমন্ত্রী রবিনাহ এনডাম্বা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে তার দপ্তর আগামীকাল সোমবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রিসভার অনুমোদন চাইবে। অনুমোদন পেলে, আরও খাদ্যশস্য কিনে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিতরণ করা হবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, এই বছর এপ্রিল মাস থেকে এই অঞ্চলে খুব কম বা একেবারেই বৃষ্টি হয়নি, যা সাধারণত বীজ বপনের মৌসুমের শুরু। বৃষ্টির অভাবে ভুট্টা, জোয়ার এবং সয়াবিনের বিশাল খেত শুকিয়ে গেছে, যা ভালো ফসলের আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন উজাড়, অতিরিক্ত পশুচারণ এবং ফসলের রোগ কারামোজা অঞ্চলের এই বারবার খাদ্য সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এইসব কারণে স্থানীয় জনগণ প্রতি বছর দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকে। সরকার ইতোমধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আরও নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ এবং খরা-সহনশীল ফসলের জাতের উন্নয়ন ও প্রসারের ওপর জোর দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, উগান্ডার আধা-শুষ্ক উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতীতে বেশ কয়েকবার তীব্র খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। দেশটির সরকারি মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে উত্তর-পূর্ব উগান্ডায় অনাহার ও ক্ষুধাজনিত রোগে ২,২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
সেই সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি ওকেলো ওরিম অনাহারে মৃত মানুষদের ‘বোকা’ বলার জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি দাবি করেছিলেন যে উগান্ডার উর্বর জমি এবং অনুকূল জলবায়ুতে মানুষের পক্ষে নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। তার এই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।

সূত্র: বিবিসি
