চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

Untitled design (99)

রোগী ও মৃতের আত্মীয়দের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের যানবাহন প্রবেশে বাধা, প্রতারণা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতাল এলাকায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার (২১ জুন) পাঁচলাইশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ উদ্দিন সরদার বাদী হিসেবে মামলাটি দায়ের করেন।
এই মামলায় চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সঙ্গে জড়িত ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এতে অবৈধ সমাবেশ, অবরোধ, হামলা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা এবং হুমকিসহ সড়ক পরিবহন আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো যুক্ত করা হয়েছে। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৭ জুন বিকেলে সিএইচএমইসি হাসপাতালের পূর্ব গেটের ভেতরে এনসিপির মানববন্ধনের ওপর হামলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
হামলায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্য সম্পাদক আশিকুর রহমান আশিক, যুগ্ম সদস্য সম্পাদক আসিফ চৌধুরী ও যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মারুফ আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চমেক হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগী ও মৃতের আত্মীয়দের কাছ থেকে ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আদায় করছে। বাইরে থেকে আসা বৈধ অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনকে হাসপাতাল চত্বরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফিটনেস ও রুট পারমিট ছাড়া সাধারণ মাইক্রোবাসে নীল বাতি ও সাইরেন লাগিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ জানায়, গত মার্চে বাবার মরদেহ চামেক হাসপাতাল থেকে আনতে গেলে ফটিকছড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে সিন্ডিকেটের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ আনতে গিয়ে তাকে সাড়ে সাত হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। আরেক ভুক্তভোগী মুজিবুর রহমান জীবন জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চামেক হাসপাতাল থেকে চাঁদগাঁও পর্যন্ত একটি লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে ৩,০০০ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে চাইলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও দুটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি তদন্তমূলক ভিডিও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। গত ৮ জুন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন আদালত সিএমপি-র উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হলে পাঁচলাইশ থানাকে মামলাটি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

Description of image