বিশ্ববাজারে সোনার দামে তীব্র পতন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়েছে। ফলে, দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে। রয়টার্স সংবাদ। আজ সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে স্পট সোনার দাম ১.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৫৭.৮৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে, জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ১.৪ শতাংশ কমে ৪,৬৬৫.৭০ ডলারে নেমে আসে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রবিবার ইরানের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের দ্রুত অবসানের আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এই সংঘাত ইরান ও লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “অবিলম্বে শান্তি চুক্তির আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।” একই সময়ে, অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় সোনার বাজারও চাপের মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সংকোচন ঘটেছে এবং ফলস্বরূপ তেলের দাম বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময়ের জন্য উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ শুক্রবার প্রকাশিত তাদের অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে যে, ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে তেল সরবরাহ ও মূল্যের উপর সৃষ্ট ধাক্কা এখন বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও তাদের সুদের হার কমানোর পূর্বাভাস স্থগিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখন আশা করছে যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৭ সালের মার্চ মাসে সুদের হার কমাবে। এর আগে তারা এই বছরের সেপ্টেম্বর এবং ডিসেম্বরে সুদের হার কমানোর পূর্বাভাস দিয়েছিল। জ্বালানির উচ্চ মূল্য ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ায় এই পরিবর্তনটি এসেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন এই সপ্তাহে প্রকাশিতব্য এপ্রিল মাসের মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে। অন্যদিকে, চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে চীনের স্বর্ণ উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কিছু স্বর্ণ গলন কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
টিম ওয়াটারার বলেছেন, “স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে সোনার দাম ৪,৪০০ থেকে ৪,৮০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে, কারণ যুদ্ধবিরতি থাকলেও এখনও কোনো শান্তি চুক্তি হয়নি।” এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮০.১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১.২ শতাংশ কমে ২,২৯.৯৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৭ শতাংশ কমে ১,৪৮১.৯ ডলারে নেমেছে।

