টর্চলাইট সংঘর্ষ, সাংসদ ও ৫০ জন আহত

Untitled design (33)

সুনামগঞ্জের ছাটকেতে জমি বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (৮ মে) রাতে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের জওয়াবাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে। এ সময় দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেয়। সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এলাকার কোনাপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী প্রায় এক বছর আগে জওয়াবাজার সংলগ্ন খিদ্রখাপন গ্রামের প্রাক্তন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আফরোজ মিয়ার কাছ থেকে কিছু জমি কিনেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে দুদিন আগে মোহাম্মদ আলী আফরোজ মিয়াকে গালিগালাজ করেন। পরে, এই বিষয় নিয়ে জাওয়া বাজারে আফরোজ মিয়ার লোকজন ও মোহাম্মদ আলীর লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর দুই পক্ষ আবার একজোট হয়ে জাওয়া বাজার এলাকায় এক ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত পঞ্চাশজন সমর্থক আহত হন।
সংঘর্ষ চলাকালে জাওয়া বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ কামরুজ্জামান কামরুল যানজটে আটকে পড়েন। পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখে তিনি দুই পক্ষকে থামাতে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুই পক্ষের ছোড়া ইট ও ভাঙা ইটের আঘাতে তিনি আহত হন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিকটবর্তী কৈতক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে, সাংসদের হস্তক্ষেপে এবং যৌথ বাহিনীর প্রচেষ্টায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আড়াই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জাওয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক বছর আগে কেনা জমি রেজিস্ট্রি না হওয়াকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বহু লোক আহত হয়েছেন।

Description of image