পিসিএ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে

Untitled design (64)

অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিসিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন স্তরে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত ও বহুমাত্রিক করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) ব্রাসেলস সফর করেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই সফরকালে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস)-এর সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কালাসের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিসিএ) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
ড. খলিলুর রহমান ও কায়া কালাস পিসিএ স্বাক্ষরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী কাঠামো হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। তাঁরা আরও মত দেন যে, এটি অভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি করবে।
পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে, উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউ প্রতিনিধিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের চলমান সংস্কার, পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য ইইউ-কে ধন্যবাদ জানান। জবাবে, কায়া কালাস একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য বাজার প্রবেশাধিকার এবং ইইউ-এর সাথে একটি টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাসহ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো তুলে ধরেন। একই সাথে, তিনি বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) নিয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইইউ-এর মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একটি টেকসই সমাধানে তাদের অব্যাহত সম্পৃক্ততা কামনা করেন। সফরকালে তিনি বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বাংলাদেশ-বেলজিয়াম সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ, উদ্ভাবন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
উভয় পক্ষ চলতি বছরের শেষের দিকে ব্রাসেলসে তৃতীয় বাংলাদেশ-বেলজিয়াম দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভা আয়োজন করতে সম্মত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলজিয়ামের দক্ষ খাত—লজিস্টিকস, বন্দর ব্যবস্থাপনা, ঔষধশিল্প, প্রযুক্তি এবং পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান। এছাড়াও, অভিবাসন, ভিসা ও কনস্যুলার বিষয় এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
একই দিনে তিনি ইউরোপীয় কমিশনের স্টার্টআপ, গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক কমিশনার একাতেরিনা জাহারিভার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতে বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর আলোকপাত করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘হরাইজন ইউরোপ’ কর্মসূচির অধীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
একদিনের এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম, জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এবং বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইইউ মিশনের প্রধান খন্দকার মাসুদুল আলম।

Description of image