বৈশাখের আগে ইলিশের আকাশছোঁয়া দাম, বাজারে সংকট

Untitled design (32)

প্রথম বৈশাখের আগে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এবং মৎস্য বন্দর আলিপুর-মহিপুরের পাইকারি মাছের বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের ইলিশ সীমিত থাকলেও বড় ইলিশ প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।
মাঠে দেখা গেছে, ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট জাটকা প্রতি মণ ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধি খুচরা বাজারকেও প্রভাবিত করেছে। শহরের নিউ মার্কেটসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে ইলিশ বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। মাছের দোকান মালিকরা জানান, তেল সংকটের কারণে জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ ধরতে পারছেন না। এর সঙ্গে ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশাখকে ঘিরে চাহিদা বৃদ্ধি—এই সবকিছু বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
মহিপুরের ভাই ভাই আরত-এর বিক্রেতা মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, “সমুদ্রে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তেল সংকটের কারণে অনেক জেলে সমুদ্রে যেতে পারছেন না। এর ওপর আসন্ন নিষেধাজ্ঞা—এই সবকিছু আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।” ইলিশ কিনতে আসা এক ক্রেতা এ. রহিম বলেন, “ইলিশের দাম দেখে আমি অবাক। মনে হচ্ছে সোনার চেয়েও দামী। যদি কম দামে চান, বিক্রেতারা বলছেন যে ওই দামে ইলিশের আঁশও পাওয়া যাবে না।”
মহিপুর মৎস্য আরত সমবায় সমিতির প্রাক্তন সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ফজলু গাজী বলেন, “চাহিদার তুলনায় সমুদ্রে কম ইলিশ ধরা পড়ছে। তেল সংকটও রয়েছে। বৈশাখে চাহিদা থাকলেও বাজারে সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি।” উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে সমুদ্রে মাছের পরিমাণ কম ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। একারণেই দাম বেড়েছে।

Description of image