শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: জন্মদিনে এক মহীরুহ নেতৃত্বের স্মরণ
আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর জন্মদিন। এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে এক মহান দেশপ্রেমিক, মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রনায়ককে—যিনি সংকটময় সময়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাহস, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসে চিরভাস্বর। চট্টগ্রাম থেকে তাঁর বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাই স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উদ্বুদ্ধ করেছিল লাখো মানুষকে। একজন সাহসী সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি সম্মুখসমরে নেতৃত্ব দেন এবং বিজয় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
স্বাধীনতার পর দেশ ছিল অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত, রাজনৈতিকভাবে অস্থির। এমন এক সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বাস্তববাদী ও জনমুখী নীতির মাধ্যমে জাতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তিনি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন এবং কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন ও শ্রমনির্ভর অর্থনীতির মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের পথ সুগম করেন।

শহীদ জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন। তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পরিসর সম্প্রসারণ করেন এবং গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” ধারণার মাধ্যমে তিনি জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্বকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন, যা আজও দেশের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
পররাষ্ট্রনীতিতে জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী ও শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক। দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা, শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা দেন, সেটিই পরবর্তীতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) হিসেবে বাস্তবায়িত হয়। এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৮১ সালে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তবে তাঁর আদর্শ, কর্ম ও অবদান আজও জাতির পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে। জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রপতি নন—তিনি ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা, জনপ্রিয় নেতা এবং একজন দূরদর্শী জাতির কারিগর।
তাঁর জন্মদিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এই মহান নেতাকে এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। তাঁর স্বপ্নের আত্মমর্যাদাশীল, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।
