জানুয়ারি 30, 2026
Untitled_design_-_2025-11-02T133754.360_1200x630

দুই প্রাক্তন বন্ধুর মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে সুদানের লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ নিহত হচ্ছে। প্রশ্ন হলো দেশটির সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী দুই বছর ধরে এই ধরনের সশস্ত্র সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পদ কোথা থেকে পাচ্ছে? বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে যে বিদেশীদের সহায়তায় সুদানে গৃহযুদ্ধ এত দিন ধরে দীর্ঘায়িত হচ্ছে। একদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আরএসএফকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে মিশর, তুরস্ক এবং ইরানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে সমর্থন করার অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি এখন এরকম – সুদানের আল ফাশির যেন লাশের শহরের মতো। আধাসামরিক বাহিনী কর্তৃক নির্বিচারে হত্যা, লুটপাট এবং ধর্ষণের পর আফ্রিকার সবচেয়ে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ আবার আলোচনায়।
গত দুই বছর ধরে, রাজধানী খার্তুম এবং দারফুর সহ বেশ কয়েকটি অঞ্চল সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। প্রায় ১৫০,০০০ নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। লক্ষ লক্ষ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
২০১৯ সালে এক অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ওমর আল-বশিরকে উৎখাত করার পর থেকে সুদান অস্থিতিশীল। প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ মিত্র জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) নেতা জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির বিরোধ ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
দুই বছর ধরে এত রক্তক্ষয়ী সংঘাত চালানোর জন্য সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ কোথা থেকে সম্পদ পেল? বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে যে বিদেশী সাহায্য ছাড়া এত দিন ধরে এই গৃহযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব। জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সুদানের আধাসামরিক বাহিনীকে অস্ত্রের বৃহত্তম সরবরাহকারী। অভিযোগ করা হয়েছে যে তাদের বিতর্কিত অবস্থান আরএসএফের অধীনে বিশাল সোনার খনির কারণে। তবে, আবুধাবি সর্বদা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, মিশর, তুরস্ক এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব স্বার্থে সুদানের সেনাবাহিনী অর্থাৎ এসএএফকে সমর্থন করার অভিযোগ রয়েছে। ইনস্টিটিউট অফ ওয়ার অনুসারে, সুদানের সীমান্তবর্তী মিশর লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে চায়। এই কারণেই কায়রো সুদানের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক সদস্যদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে। প্রসঙ্গত, ইরান এবং তুরস্কের লক্ষ্য লোহিত সাগরে তাদের প্রভাব বিস্তার করা। আর তাই, এই দুই দেশের বিরুদ্ধে সুদানের সামরিক বাহিনীকে সামরিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। যদিও তারা সর্বদা দেশটির গৃহযুদ্ধে তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।

Description of image