জানুয়ারি 30, 2026

চট্টগ্রামে মালবাহী ট্রেনের সাথে লরির ধাক্কায় ১ জনের প্রাণ গেল

Untitled design - 2025-10-28T111838.582

চট্টগ্রামের সাগরিকা এলাকায় একটি পণ্যবাহী লরি রেললাইনে ঢুকে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে ধাক্কা মারে। লরিটি উল্টে যায় এবং ট্রেনের ইঞ্জিন এবং একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় একজন লরির নিচে চাপা পড়ে যায় বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে শহরের সাগরিকা স্টেডিয়াম রেলগেট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর থেকে ওই রুটে মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি।
জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম শামসুল হাই (৬০)। তিনি চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলীর দিদার কলোনির বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার দোকানের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এছাড়াও, ট্রেনের লোকোমাস্টার মনিরুল ইসলাম এবং সহকারী লোকোমাস্টার মো. আলমগীর আহত হয়েছেন এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার পর ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এবং কুমিল্লার লাকসাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন আসছে বলে জানা গেছে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৪:২০ মিনিটে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি মালবাহী ট্রেন ছেড়ে যায়। ট্রেনটি সাগরিকা এলাকায় পৌঁছানোর পর, একটি মালবাহী লরি রেললাইনে ঢুকে পড়ে এবং ট্রেনের ইঞ্জিনে জোরে ধাক্কা দেয়। ফলে ট্রেনের ইঞ্জিনটি উল্টে রেললাইন থেকে পড়ে যায় এবং একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। লরিটি উল্টে যাওয়ার পর শামসুল হাই নামে এক ব্যক্তি লরির নিচে চাপা পড়ে মারা যান। ঘটনার পর সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। নিহতের পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পর মালবাহী ট্রেনের বাকি বগিগুলিকে সিজিপিওয়াই স্টেশনে আনা হয়।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা আমাদেরকে জানিয়েছেন, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সাগরিকা এলাকায় গেট খোলা ছিল। ফলে দ্রুতগামী লরিটি রেললাইনে ঢুকে পড়ে। গেটম্যান সিগন্যাল না মানার কারণে লরিটি সরাসরি ট্রেনের ইঞ্জিনে ধাক্কা দেয়। পূর্ব রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, “গেটম্যানের অবহেলা এবং গেট খোলা থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি শহীদুল ইসলাম আমাদেরকে বলেন, “লরির কারণে দুর্ঘটনার কারণে মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে কোনও সমস্যা হয়নি। কারণ এই লাইনটি শুধুমাত্র মালবাহী ট্রেন এবং কন্টেইনার পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়।”

Description of image