মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার বক্তব্যের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু
সুনামগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত এক বিএনপি নেতার আবেগঘন বক্তব্য শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যু। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আরও একজন কর্মীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে তাহিরপুর বাজারে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় এই ঘটনা ঘটে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন।
নমিনেশন না পাওয়ার জন্য তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এবং তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানেই মধ্য তাহিরপুর গ্রামের শুলতু মিয়া (৫৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এবং একই উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বিএনপি কর্মী মোদাসসির আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মোদাসসির বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে বিএনপি দলের প্রাথমিক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। সুনামগঞ্জ-১-এ কামরুলের পরিবর্তে উপজেলা নির্বাচনে কামরুলের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত আনিসুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এই খবর পেয়ে কামরুলের রাজনৈতিক ভক্ত এবং উজান তাহিরপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী শুলতু মিয়া (৫৫) একই দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গতকাল শুক্রবার বিপ্লব ও সংহতি দিবসে কামরুল আসার খবর পেয়ে তিনিও অসুস্থ শরীরে উপস্থিত হন। কামরুল যখন আবেগঘন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি আবার মানসিক অসুস্থতার কারণে পড়ে যান। দলীয় কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া, একই সময়ে কামরুলের আবেগঘন বক্তৃতা শুনে বিএনপি কর্মী মোদাচ্ছির আলমও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনিও হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কামরুল তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান। তিনি সেখানে ব্যক্তিগতভাবে তার চিকিৎসা তদারকি করছেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শুলতু মিয়ার ছেলে ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম নবাব বলেন, “আমাদের নেতা কামরুজ্জামান কামরুলকে মনোনয়ন না দেওয়ার খবর শুনে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমার বাবা কামরুল সাহেবের একজন অবিশ্বাস্য ভক্ত ছিলেন। অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও, তিনি গতকাল সমাবেশে এসেছিলেন। কামরুজ্জামান কামরুল যখন আবেগঘন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি পড়ে যান। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
এদিকে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি কর্মী মোদাচ্ছির আলম বলেন, “কামরুল ভাই আমাদের নির্বাচনী এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কর্মীবান্ধব নেতা। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় আমি খুবই দুঃখিত। এই শোক নিয়ে গতকাল যখন আমি সমাবেশে যাই, তখন তার আবেগঘন বক্তৃতা শুনে আমার বুকে ব্যথা অনুভূত হয়। পরে, আমাকে হাসপাতালে আনা হয়।”
তিনি বলেন, “কামরুল আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন। তিনি আমাদের মনের ভাষা বোঝেন। তৃণমূল তার জন্য পাগল। যদি তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। আমরা দাবি করছি যে কামরুল ভাইকে দলীয় ফোরামে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হোক।”
কামরুজ্জামান কামরুল, যিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন, তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কোনও টাকা নেই। নেতাকর্মীরা আমার সভা-সমাবেশের খরচ বহন করেন। সাধারণ নেতাকর্মীরা আমার ভালোবাসা। তারা আমাকে কতটা ভালোবাসে তা ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। আমার এক ভক্ত আবেগপ্রবণ অবস্থায় আমার বক্তৃতা চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আরেকজন হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে ভালোবাসে বলেই, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকার আমার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দায়ের করে এবং অসংখ্যবার জেলে পুরে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেনি। আমি জানি না আমি কীভাবে এই মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দেব। প্রয়োজনে আমি তাদের জন্য আমার জীবন দিতেও প্রস্তুত। কর্মী হারানোর শোকে আমি হতবাক।’

