রিকশাচালককে জুতাপেটা করা সেই সরকারি কর্মচারী বরখাস্ত

0

রাজশাহীর পবা উপজেলায় রিকশাচালককে জুতাপেটা করা সেই সরকারি কর্মচারী জাহিদ হাসান নামে এক সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। (সোমবার) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৫ (প্রশাসন ও শৃঙ্খলা) শাখার এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

Description of image

রাষ্ট্রপতির নির্দেশে সচিব ড. মোঃ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিকশাচালককে নির্মমভাবে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের আচরণ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ অধিদফতরের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করেছে। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে এ ধরনের আচরণ অশালীন, অসংগতিপূর্ণ, চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই তাকে সরকারি চাকরি আইন ও সরকারি চাকরিজীবী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। জাহিদ হাসান নিয়মানুযায়ী খাদ্য ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ওই রিকশাচালককে জুতা মারার সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এতে জাহিদ হাসানকে দেখা যায় তার জুতা খুলে কোয়ার্টারের সামনে এক রিকশাচালককে মারতে দেখা গেছে। পরে একটি প্রাইভেটকারের পেছন থেকে একটি লাঠি নিয়ে রিকশাচালককে আঘাত করেন তিনি। তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজও করেন।

পরদিন শনিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তার সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরা খাতুন ও পবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজকে তদন্তের জন্য চিঠি দেন। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই জাহিদ হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করে মন্ত্রণালয়।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সোমবার পর্যন্ত দুই দিনের ছুটি নেন জাহিদ। এর আগে রোববার তিনি তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস লিখেন, “এমন ঘটনা কি আর কারো জীবনে ঘটেনি? আমি অন্যায় করেছি।” “কিন্তু এত বড় শাস্তি কি আমার প্রাপ্য ছিল?” পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চেয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।