১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে জমি বন্ধক রেখে ফিরলেন মহেশখালীর দুই যুবক

Untitled design - 2026-05-20T125952.579

পাহাড়ের গভীরে পাঁচ দিনের বন্দিদশা। চোখে পট্টি বেঁধে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, সামান্যতম ভুলও অমানবিক নির্যাতন। এদিকে, সন্তানদের জীবিত ফিরিয়ে আনতে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পরিবারটি, যার মধ্যে রয়েছে জমি, পান পাতা বন্ধক রাখা এবং গরু বিক্রি করা।
অবশেষে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে অপহৃত দুই যুবক বাড়ি ফিরেছেন। তবে ফিরেও তারা এখনো আতঙ্কে রয়েছেন। অপহৃত দুই যুবক হলেন মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কালালিয়াকাটা এলাকার লাল মিয়ার ছেলে রবিউল আলম এবং একই এলাকার বাদশাহ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ এহসান।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারবর্গ জানিয়েছে যে, একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র গত ১২ মে দুই যুবককে মহেশখালী থেকে কক্সবাজারে নিয়ে যায়। পরে তাদেরকে ইনানির পটুয়ারটেক সংলগ্ন একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় আটকে রাখা হয় এবং প্রাথমিকভাবে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ফিরে আসা যুবকরা জানান, অন্তত পাঁচজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী দিনরাত তাদের পাহারা দিত। তাদের অবস্থান গোপন রাখতে প্রতিদিন এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে স্থানান্তরিত করা হতো। এই সময়ে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ফোনে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই অপহরণকারী চক্রের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিস্তৃত ও বিপজ্জনক। এতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী ও মিয়ানমারের কিছু অপরাধী জড়িত থাকতে পারে। এমনকি তারা ভারত থেকে আসা কিছু অপরাধীর জড়িত থাকার কথাও জানতে পেরেছেন। তাদের নিজস্ব যানবাহন রয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের লক্ষ্যবস্তু করতে ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ১০ লাখ টাকায় একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়। এই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে দুটি পরিবার কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়ে। গরু বিক্রি করে, জমানো টাকা, ধানক্ষেত ও জমি বন্ধক রেখে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর প্রশাসনের কাছে গিয়েও তারা কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। এ প্রসঙ্গে মহেশখালী থানার ওসি মুহাম্মদ আবদুস সুলতান বলেন, দুই যুবকের অপহরণের বিষয়টি পুলিশ জানত এবং বিষয়টি জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, মুক্তিপণ দিয়ে তাদের মুক্তির বিষয়ে পুলিশ অবগত ছিল না।

Description of image