বাংলাদেশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ১৫ জন সংসদ সদস্যের চিঠি, সবাই একই দলের

3

অস্ট্রেলিয়ার অন্তত ১৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) যুক্তরাষ্ট্রের মতো অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (৪ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানির কাছে লেখা এক চিঠিতে তারা এ অনুরোধ জানান।

Description of image

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা সবাই বিরোধী অস্ট্রেলিয়ান গ্রিন পার্টির এমপি। তাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মেহরীন ফারুকী।

দলটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আহ্বান জানিয়ে আসছে। অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ সম্প্রতি তাদের এমপিদের চিঠি দিয়ে বাংলাদেশে তাদের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ান গ্রিন পার্টির এমপিরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি, র‌্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ প্রসঙ্গে চিঠিতে তারা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগামী নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যরা সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের বিষয়ে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রথম দাবি হলো, বাংলাদেশ সরকারকে মানবাধিকারের মানদণ্ড অনুযায়ী জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার নির্বাচনের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যাশার কথা বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

দ্বিতীয় দাবি হল অস্ট্রেলিয়া সরকারকে স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের অবাধে কাজ করার সুযোগ সহ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।

তৃতীয় দাবিটি হল ম্যাগনিটস্কি গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার অবমূল্যায়ন বা অনুমোদনের সাথে জড়িত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুন – যা অস্ট্রেলিয়ান সরকারের উচিত বাংলাদেশ সরকারকে প্রকাশ্যে বলা।

অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীকে লেখা তাদের চিঠিতে লিখেছেন যে অস্ট্রেলিয়ান সরকার কূটনীতির মাধ্যমে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদ সদস্যরা আশা করেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাদের চিঠিটি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানাবেন।